Sandbox

Sandbox is a multipurpose HTML5 template with various layouts which will be a great solution for your business.

Contact Info

Moonshine St. 14/05
Light City, London

info@email.com
00 (123) 456 78 90

Learn More

Follow Us

ঠেকাবেন যেভাবে ফেসবুক-মেসেঞ্জার হ্যাক হওয়া

নিউজবিডি ডেস্ক: স্মার্টফোন আছে অথচ ফেসবুক ব্যবহার করেন না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। ফেসবুক ছাড়াও অনেকেই টুইটার, মেসেঞ্জারসহ অনেক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে যেমন এর উপকারিতা রয়েছে তেমনি অ্যাকাউন্টটি যদি হ্যাক হয়ে যায় তাহলে ভোগান্তির শেষ নেই।

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যারা কাজ করেন তারা কিছু উপায় বলছেন, যাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, ইমেইল বা গুগল অ্যাকাউন্ট থেকে তথ্য চুরি যাওয়া বা হ্যাকিং এর শিকার হওয়া থেকে বাঁচা যায়।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে এর কোন বিকল্প নেই।

কখন বুঝবেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে:

কেউ যদি আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপনাকে জিম্মি করে আপনার ক্ষতি করতে চায়, তাহলে আপনার অ্যাকাউন্টে আপনি নিজেও পাসওয়ার্ড দিয়েও ঢুকতে পারবেন না। কিন্তু আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে ইমেইল বা পোস্ট যেতে থাকবে। তখন আপনি বুঝবেন আপনি আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।

আবার এমনও হতে পারে, আপনি আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছেন কিন্তু আপনার নামে আপত্তিকর মেইল বা পোস্ট দেয়া হচ্ছে সেক্ষেত্রে আপনি ধরে নিতে পারেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে।

তাৎক্ষনিক করণীয়:

তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানান আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে। সেক্ষেত্রে জরুরী সেবার যে নম্বর ৯৯৯ রয়েছে সেখানে জানাতে পারেন। এছাড়া ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা পরিবারের কারো অ্যাকাউন্ট থেকে জানাতে পারেন যে আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে।

পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে যেসব পোস্ট বা ছবি শেয়ার করা হচ্ছে, সেগুলো আপনি করছেন না।

যেভাবে হ্যাক হয়:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্ষেত্রে একটা ‘প্রোগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং’ ব্যবহার করা হয়।

যেমন: অপরিচিত বা পরিচিত বা কৌতুহলোদ্দীপক ঠিকানা থেকে আপনার কাছে একটা ইমেইল পাঠানো হল। এটাকে বলে ‘ফিশিং’ ইমেইল। সেখানে কিছু ছবি বা ফাইল থাকতে পারে বা লিঙ্ক থাকতে পারে।

আপনি সেখানে ক্লিক করলে আপনার ডিভাইসে একটা সফটওয়্যার ঢুকে যায় এবং আপনার কার্যক্রমগুলো মনিটর বা পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।তখন দূরবর্তী কোন স্থান থেকে একজন, যে সফটওয়্যারটি নিয়ন্ত্রণ করছে, তার কাছে আপনার তথ্যগুলো চলে যায়।

এভাবে সোশাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট যেমন হ্যাক করা যায়, তেমনি অন্য ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা যায়।

টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন:

ফেসবুক, ইমেইল বা গুগল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করার জন্য এতদিন বলা হত যত শক্তিশালী বা জটিল বর্ণ, ডিজিট দিয়ে করা যায় ততই নিরাপদ। কিন্তু সে ধারণা এখন পাল্টে গেছে।

সাইবার বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলছেন, এখন অনেক সফটওয়্যার রয়েছে যেটা দিয়ে পাসওয়ার্ড ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব। সেজন্য দুই ধাপে পাসওয়ার্ড ভেরিফাই করা যায় এমন ব্যবস্থার মধ্যে আসতে হবে।

তিনি বলছিলেন, যেমন আপনি যদি টু ফ্যাক্টর ফিচার ব্যবহার করেন সেটা নিরাপদ করবে আপনার অ্যাকাউন্টকে।

তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলছিলেন, আপনার অ্যাকাউন্টে যদি অন্য ডিভাইস থেকে কেউ লগইন করার চেষ্টা করে তাহলে আপনার মোবাইলে বা ইমেইলে একটা কোড নোটিফিকেশন আসবে। তখন আপনি জানতে পারবেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

‘আবার আপনি নিজে যদি অন্য ডিভাইস থেকে লগইন করার চেষ্টা করেন, তাহলে আপনি নিজেই চেক করে অনুমোদন দিয়ে অ্যাকাউন্টটি চালু করতে পারেন।’

অপরিচিত ইমেইল, লিংক এড়িয়ে চলা:

যদি আপনার ফেসবুকে কোন লিংক আসে, সেটা মেসেঞ্জারের মাধ্যমেও হতে পারে, সেটা এড়িয়ে চলুন। সাবির বলছিলেন, আমাদের কৌতুহল একটু কমাতে হবে। যেকোন লিংক বা ইমেইলে অ্যাটাচমেন্ট থাকলে সেটা ক্লিক করার আগে বা খোলার আগে সচেতন করতে হবে।

যেমন আপনার পরিচিত একজন বন্ধু আপনার কাছে একটা লিংক পাঠালো যেটা তার স্বভাববিরুদ্ধ হতে পারে। তখন আপনি সেটা তার সাথে কথা না বলে ক্লিক করবেন না। হতে পারে আপনার ঐ বন্ধুর অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে এবং অন্য কেউ সেই লিংকটি পাঠিয়েছে।

এসব লিংক বা ফাইল খোলার ফল:

এসব লিংক বা ইমেইলে থাকা অ্যাটাচমেন্টে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ম্যালওয়ার থাকতে পারে যেটা আপনার ডিভাইসে ঢুকে আপনার ডিভাইসের তথ্য চুরি করতে পারে। তবে আপনি যদি কোন ইমেইল খুলে কী লেখা আছে সেটা পড়তে থাকেন অ্যাটাচমেন্ট ক্লিক না করে সেক্ষেত্রে এই ম্যালওয়ারটি আপনার ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইলে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

সফটওয়্যার ও অ্যাপ ব্যবহারে সাবধানতা:

যেকোন ধরণের সফটওয়্যার যে কোন ডিভাইসে ইন্সটল করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকতে হবে। এক্ষেত্রে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সফটওয়্যার এবং অ্যাপগুলো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে ব্যবহার করতে হবে।

যেকোন স্থান থেকে যদি আপনি সফটওয়্যার এবং অ্যাপ ডাউনলোড করেন তাহলে আপনি নিজেকে বিপদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবেন নিজেকে।

সেটিংস পরিবর্তন করা:

আপনি যেসব ডিভাইস ব্যবহার করেন সেসব ডিভাইস এর সেটিংস অপশনে গিয়ে বেশ কিছু বিষয় নিরাপত্তার জন্য পরিবর্তন করা। যেমন লগইন অ্যালার্ট চালু করুন। লগইন অ্যাপ্রুভাল চালু করুন।

আপনাকে যাতে কোন ছবি বা পোষ্টে কেউ আপনার অনুমতি না নিয়ে ট্যাগ না করতে পারে সেই অপশনটা চালু করুন। এতে করে অন্যের কাজের দায়ভার আপনার নিতে হবে না। আর আপনি নাও চাইতে পারেন কোন পোষ্ট বা ছবি আপনাকে ট্যাগ না করুক ফেসবুকে।

আপনি যখন অ্যাপ্রুভ করবেন তখনি কেবল সেটা আপনার টাইমলাইনে আসবে। সূত্র: বিবিসি