Shahadat Hossen
Tech

শক্তি ও প্রযুক্তিগত ধ্যান ধারণার আবিষ্কার

নানান ধরণের (ENERGY) শক্তির বিকাশ ঘটেছে বিজ্ঞানের মাধ্যমে। প্রত্যেকেরই নিজস্ব কর্মের ক্ষমতা আছে। জীববিজ্ঞানীদের কাজ হচ্ছে পৃথিবীর জীবজন্তু নিয়ে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীর কাজ গাছপালা নিয়ে। তেমনি মনস্তত্ত্ববিদরা মানুষের মনের খবর জানতে ব্যস্ত। নৃতত্ত্ববিদরা অনুসন্ধান করছেন প্রাচীন জগতের মানুষ এল কোথা থেকে? এই ভাবেই গড়ে উঠেছে বিজ্ঞানের নানা দিক।

পদার্থ অপদার্থ প্রসঙ্গে
এই পৃথিবীর কোটি কোটি জিনিস বিভিন্ন রকমের বৈচিত্রে ভরা। বিজ্ঞানীরা এই সব বৈচিত্রাময় বস্তুকে এক কথায় বলেছেন, পদার্থ। ইংরেজীতে ম্যাটার।

পদার্থ কি?
বিজ্ঞানীদের মতে, পদার্থ খানিকটা জায়গা নিয়ে থাকে, পদার্থকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিতে হলে কিছুটা শক্তির (ENERGY) দরকার হয়। পাথর, কাঠ, দুধ বা পানি- এগুলিকে আমরা দেখে থাকি। আবার গন্ধ দিয়ে কিছু অনুভব করতে পারি। আবার বায়বীয় পদার্থরও অস্তিত্ত্ব ধরা পড়ে অন্য ভাবে।

আমাদের এই পৃথিবীর আবরণটা তৈরি হয়েছে অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি কয়েকটি গ্যাসের সাহায্যে। ধাতুর মধ্যে প্রধানত দেখা যায় অক্সিজেন নাইট্রোজেন, আর পানির মধ্যে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন- সব কটিই গ্যাস। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গ্রহ নক্ষত্রের মধ্যেও এই সব পদার্থকেই আবিষ্কার করেছেন।

দুটি বা তার বেশী মৌলিক পদার্থ একসঙ্গে মিশে যে সম্পূর্ন আলাদা জাতের পদার্থ হয় তাকে বলে যৌগিক পদার্থ। হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দুটি গ্যাস। যৌগিক পদার্থ তৈরী করতে হলে মৌলিক পদার্থগুলির একটা বিশেষ অনুপাত এবং অবস্থা দরকার।

পরিবর্তনের রূপ ও শক্তি (ENERGY)
আমরা জেনেছি মৌলিক পদার্থের মধ্যে বিশেষ অবস্থার মিশ্রনে যৌগিক পদার্থের সৃষ্টি হয়। বিশেষ অবস্থার এই পরিবর্তিত পদার্থকে আমরা বলি রাসায়নিক পদার্থ। আবার সাধারণ ভাবে দুটি মৌলিক পদার্থকে মিশিয়ে দেওয়া যায়, তাকে ভৌতিক পরিবর্তন বলা হয়। ইংরেজীতে বলা হয় ‘ফিজিক্যাল চেঞ্জ’। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে- এক কাপ পানিতে চিনি মিশিয়ে দিলে পানিটা মিষ্টি লাগে, কিন্তু চিনিটা আর আমরা দেখতে পাই না। একটা বেলুনে ফুঁ দিলে বেলুনটা ফুলে ওঠে, আর অনেক বড় দেখায়। সুইচ টিপলে ইলেকট্রিক বাতি জ্বলে ওঠে, বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে বাতিটা আর জ্বলে না। পরিবর্তন হল, কিন্তু তা স্থায়ী নয়, একেই বলা হয় ভৌতিক পরিবর্তন। রাসায়নিক পরিবর্তনে নতুন পদার্থের সূচনা হয়, কিন্তু ভৌতিক পরিবর্তনে তা সম্ভব নয়।

পদার্থ কি দিয়ে তৈরী তা জানা গেল। পদার্থ যখন চলতে চলতে শক্তি (ENERGY) অর্জন করে তাকে বলা হয় গতি শক্তি। যেমন- একটা বন্দুকের গুলি নিঃশব্দে নির্জীব রয়েছে, কিন্তু গুলিটা বন্দুকে পুরে ছুড়লে তার শক্তি অসীম হয়। একেই বলে গতি শক্তি। আবার স্থিতিশক্তিও আছে। যার ভেতর বিভিন্ন অবস্থানের জন্য একটা কর্মশক্তি নিহিত থাকে।

সূর্য আমাদের শক্তির উৎস
বিজ্ঞানীদের মতে শক্তির উৎস সূর্য। ভারতের প্রাচীন মুনি ঋষিরা সূর্যের এই বিপুল শক্তিকে আবিষ্কার করেছেন। সূর্যের আলো ও তাপে উদ্ভিদ থেকে আমরা খাদ্য পাই।

সূর্যের দেহ থেকেই তাপের সৃষ্টি হয়। এই তাপশক্তির প্রভাবে সৃষ্টি হয়, শস্য শ্যামলা করে ধরণীকে। সূর্যের তাপেই সমুদ্র নদী প্রভৃতি থেকে পানি বাষ্পে পরিণত হয়, যার ফলে মেঘের সৃষ্টি।

শক্তি

এই মেঘ থেকেই নেমে আসে বৃষ্টি। আবার পদার্থের মধ্যেও যখন কোন রাসায়নিক পরিবর্তন হয়, তখনও দেখা যায় আলো, উত্তাপ ইত্যাদি শক্তি। ইংরেজীতে যাকে বলা হয় কেমিক্যাল এনার্জি। যেমন- টর্চের কথা বলা যেতে পারে। টর্চের মূল উৎস হচ্ছে রাসায়নিক শক্তি।

রাসায়নিক শক্তি ছাড়াও আমরা দেখতে পাই বিদ্যুৎ শক্তি, পশ্বদ শক্তি, চুম্বক শক্তি। লোহাকে চুম্বক আকর্ষণ করে। শব্দের মধ্যেও যে শক্তি আছে তের প্রমাণ পাওয়া যায়। শব্দের কম্পন আমরা অনুভব করতে পারি।

আলোকরশ্মি চলে সরল রেখায়। রশ্মি পদার্থের ওপর পড়ে প্রতিফলিত হয়ে সেগুলো আমাদের চোখে পড়লেই পদার্থটি আমরা দেখতে পাই। নিউটন এর নাম দিলেন কণিকা। পরবর্তীকালে মহাবিজ্ঞানীরা বললেন- আলো হল কতকগুলো তরঙ্গের সৃষ্টি। আলো প্রদানকারী কোন পদার্থ থেকে যে সব তরঙ্গের উৎপাদন ঘটে তা প্রতি সেকেন্ডে ১৮৬০০ মাইল বা ২৯৯৩২৪ কিলোমিটার যোগে ধাবিত হয়।

সূর্য থেকেই আলোর প্রকাশ ঘটে। পৃথিবী আর সূর্যের মাঝখানে রয়েছে লক্ষ লক্ষ মাইলের ব্যবধান। আলোর তরঙ্গ সেকেন্ডে ২৯৯৩২৪ কিলোমিটার বেগে দ্রুতগতিতেছোটে ইথারের ভিতর দিয়ে। ইলেকট্রন থেকে নিয়ে আসা শক্তি তরঙ্গ আমাদের চোখের রেটিনার ওপর পড়লে সেখানে এক ধরনের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে।

যে কোন আলোকরশ্মির গতিপথের সামনে কোন অস্বচ্ছ পদার্থ থাকলে পিছনে আমরা ছায়া দেখতে পাই। যেমন দেওয়ালে একটি বল ছুঁড়ে মারলে তা বিপরীত দিকে ফিরে আসে। আলোর ক্ষেত্রেও তাই ঘটে। একে আমরা বলে থাকি আলোর প্রতিফলন।

কোন পদার্থের ওপর আলো পড়লে আলোক শক্তির খানিকটা ঐ পদার্থ শোষণ করে নিতে পারে এরই ফলে উত্তাপের সৃষ্টি হয়। আলোক বিজ্ঞানের নানা তথ্যের উপর নির্ভর করে প্রস্তুত হয়েছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। অনুবিক্ষণ যন্ত্র, দুরবীণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ, ক্যামেরা ইত্যাদির নাম এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।

শব্দ শক্তি ও তরঙ্গ
শব্দ এক রকম শক্তি। যে শব্দ আমরা শুনি তারও কাজ করবার ক্ষমতা আছে। সাধারণত দেখা যায় বায়ুর মধ্যে শব্দের গতিবেগ ১১০০ ফুট বা ৩৪১৩ মিটার। প্রতিফলিত শব্দকে বলা হয় প্রতিধ্বনি। দূরের কোন দেওয়ালে বা গাছপালা থেকে শব্দ প্রতিধ্বনি হয়ে প্রতিফলিত হতে পারে। প্রতিধ্বনি আমাদের নানা উপকারে আসে। যেমন সমুদ্রের গভীরতা মাপার সময়, ডাক্তারের স্টেথোস্কোপ যন্ত্রে এবং নানা ভাবেই। শব্দ বিজ্ঞানের নানা তথ্যের ওপর নির্ভর করে তৈরী করা বহু যন্ত্র আমরা ব্যবহার করি। যেমন- গ্রামফোন, মাইক্রোফোন, রেডিওগ্রাম,তেপ-রেকর্ডিং যন্ত্র প্রভৃতি। নানারকম বাদ্যযন্ত্র, যেমন- বেহালা, পিয়ানো, হারমোনিয়াম প্রভৃতি। শব্দ-বিজ্ঞানের প্রণালীকেই এদের কাজে লাগানো হয়!!!

সূত্রঃ বিজ্ঞানীদের জীবনি আবিষ্কারের কথা।

 

Leave a Reply

%d bloggers like this: